দীর্ঘদিন সিভিল সার্জনের পদ শূন্য থাকার পর অবশেষে নতুন জেলা সিভিল সার্জন পেয়েছে ময়মনসিংহ। বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিকের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী টিপুকে ময়মনসিংহের জেলা সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গত ১৯ আগস্ট জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়। নতুন সিভিল সার্জনের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনে দীর্ঘদিনের শূন্যতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় আরও গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ময়মনসিংহ জেলার ১৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়, তদারকি ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে নতুন সিভিল সার্জনের নিয়োগকে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী টিপু ১৯৯৫ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের এম-৩৫ ব্যাচে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন এবং ২০০৪ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে তিনি ২৭তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৮ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘ সরকারি চাকরিজীবনে প্রশাসনিক দক্ষতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে ময়মনসিংহের জেলা সিভিল সার্জনের দায়িত্বে থাকা ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খানকে প্রত্যাহারের পর পদটি শূন্য হয়ে যায়। পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনের মাধ্যমে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। দীর্ঘদিন পূর্ণাঙ্গ সিভিল সার্জন না থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থায়ী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা ছিল।
নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে ডা. মোহাম্মদ ফখরুল হাসান চৌধুরী টিপুর যোগদানে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বয় ও গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন ময়মনসিংহবাসী। একই সঙ্গে চিকিৎসক সংকট মোকাবিলা, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, সরকারি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।